মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

বিবাহ রেজিষ্ট্রার

বিবাহ রেজিষ্টার্ড

 

বাংলাদেশের বিয়ে বলতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত বিয়ে ও এর আনুষঙ্গিক আচারকে বোঝানো হচ্ছে। বাংলাদেশের সর্বত্র বিয়েকে "বিয়ে" কিংবা "বিবাহ" নামে সম্বোধন করা হলেও অঞ্চলভেদে আঞ্চলিকভাবে আরো বিভিন্ন উচ্চারণভঙ্গিতে ডাকা হয়, যেমন: বিয়্যা বা বিয়া (বিআ) কিংবা বিহা, হিন্দী ভাষার প্রভাব বা অনুকরণে শাদী। সিলেট অঞ্চলে কখনও বিয়েকে কটাক্ষ করে ডাকা হয় হেঙ্গা।বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিয়ে একদিকে যেমন ধর্মীয় মিথস্ক্রীয়ায় পড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষঙ্গ ধারণ করেছে, তেমনি এই নৃতাত্ত্বিক সার্বভৌম এলাকার লোকাচারও ধারণ করেছে। তবে সর্বক্ষেত্রেই বিয়ে মোটামুটি তিনটি মূল অংশ: গায়ে হলুদ, বিয়ে এবং বৌভাত বা ওয়ালিমা-তে বিভক্ত। তবে ধর্মভেদে এই অংশ বিভাজনে সামান্য পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

 

মুসলমানদের বিয়েতে বাড়িতে কিংবা কমিউনিটি সেন্টারে কাজি ডেকে এনে বিয়ে পড়ানো হয়। দুপক্ষের উপস্থিতিতে কাজি, বর-কনের সম্মতি জানতে চান এবং উভয়ের সম্মতিতে বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিয়েতে পুরোহিত মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে বিয়ে পড়ান, তারপর অগ্নিকে বায়ে রেখে তাকে ঘিরে সাতবার চক্কর দেয়ার মাধ্যমে বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এছাড়া হিন্দুশাস্ত্রমতে "দৈব বিবাহ"ও হয়ে থাকে, যাতে কন্যার বাবা মন্দিরে গিয়ে ঈশ্বরকে সাক্ষী করে মেয়েকে তার জামাতার হাতে তুলে দেন। বৌদ্ধ ধর্মেও মন্ত্র আউড়ে বিয়ে পড়ান বৌদ্ধ ভিক্ষু। খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের বিয়ে হয় গির্জায়, ফাদারের উপস্থিতিতে। ফাদার, বাইবেল থেকে পাঠ করে দম্পতির সম্মতি জানেন, এবং উভয়ের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

 

বিশ্বের অনেক দেশেই বিয়ের অনুষ্ঠান একদিনের মধ্যে শেষ হয়ে গেলেও বাংলাদেশের বিয়ে এক দিনেতো নয়ই, বরং কখনও এক মাসেও শেষ হয় না। বিয়ের মুখ্য আয়োজনই থাকে কমপক্ষে তিন কি চার দিনব্যাপী।

 

বিয়ে কি?


বাংলাদেশে বিয়ের জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন নেই ফলে বিভিন্ন রকম পরিস্থিতিরমুখোমুখি হতে হয় নারীদের। তাই বর্তমান বাস্তবতায় প্রত্যেক ধর্মের নিজন্বপারিবারিক আইন মতে বিবাহ ও বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন সম্পাদিত হয়।
মুসলিম আইন মতে বিয়ে হচ্ছে ধর্ম কর্তৃক অনুমোদিত একটি দেওয়ানি চুক্তি।

 

বিয়ের শর্তগুলোঃ


সাধারণত একটি আইনসম্মত বৈধ বিয়েতে নিন্মলিখিত পাঁচটি শর্ত পালন অপরিহার্য। যথাঃ
১. বর ও কনের উপযুক্ত বয়স (আইন সন্মত ভাবে বরের বয়স ২১ বছর ও কনের বয়স ১৮ বছর)


২. বর ও কনের স্বাধীন সম্মতি


৩. সাক্ষী


৪. দেনমোহর


৫. বিয়ে রেজিষ্ট্রি ইত্যাদি।


বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন কি?


বিয়ে সংক্রান্ত গুরত্বপূর্ণ তথ্যাদি সরকারী রেজিষ্ট্রারে লিপিবদ্ধ করাইহচ্ছে বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন। মুসলিম বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। মুসলিমবিয়ে ও তালাক (রেজিষ্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪ মতে বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন না করাশাস্তিযোগ্য অপরাধ।বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন কপি হচ্ছে বিয়ের প্রথমপত্র, যা সববিবাহিত নারীর জন্য অপরিহার্য একটি দালিলিক প্রমাণ।
বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন ব্যপারে কিছু বিষয় পক্ষগুলোকে খেয়াল রাখতে হবে,যথা-


১. বিয়ের মঞ্চেই বিয়ে রেজিষ্ট্রি করতে হয়,


২. বিয়ের মঞ্চে সম্ভব না হলে বিয়ের অনুষ্টানের দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কাজী অফিসে

 

গিয়ে বিয়ে রেজিষ্টি করতে হয়,


৩. কাজীকে বাড়ীতে ডেকে এনে কিংবা কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রি করা যায়,


৪. কাবিন নামার সব শর্ত যথাযথ পূরণ করার পর বর-কনে, উকিল সাক্ষী ও অন্য সব

 

ব্যক্তিগণের স্বাক্ষর নিহে হবে।


বিয়ে রেজিষ্টেশন কেন গুরত্বপূর্ণঃ


বিয়ের রেজিষ্টেশন বর-কনে উভয়ের জন্য দরকারি। বাংলাদেশে সামাজিক পরিস্থিতিতেবিবাহিত নারীদের জন্য বিয়ের রেজিষ্টেশন জরুরী। যেসব কারণে বিয়ে রেজিষ্টেশনগুরত্বপূর্ণ, তা হলোঃ


১. কেউ এর সত্যতা অস্বীকার করতে পারে না,


২. এ দলিলের মাধ্যমে স্ত্রী বা স্বামী আবার বিয়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে,


৩. ভরণ-পোষণ আদায়ের জন্য এটি একটি প্রমাণপত্র,


৪. দেনমোহর আদায়ের জন্য রেজিষ্টিকৃত নিকাহনামা দরকার,


৫. স্বামী-স্ত্রী দু'জনের মধ্যে একজন মারা গেলে মৃতের সম্পতিতে নিজের অংশের ভাগ পেতে পারে।

 

বিয়ে কি?


বাংলাদেশে বিয়ের জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন নেই ফলে বিভিন্ন রকম পরিস্থিতিরমুখোমুখি হতে হয় নারীদের। তাই বর্তমান বাস্তবতায় প্রত্যেক ধর্মের নিজন্বপারিবারিক আইন মতে বিবাহ ও বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন সম্পাদিত হয়।
মুসলিম আইন মতে বিয়ে হচ্ছে ধর্ম কর্তৃক অনুমোদিত একটি দেওয়ানি চুক্তি।